এর মধ্যে কাজাখস্তান থেকে ডিজেল ও সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি কেনা হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কাজাখস্তানভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্লান্ট এলএলপি থেকে এক লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়। ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলার ৬ সেন্ট ধরে এক লাখ টন ডিজেল কিনতে ব্যয় হবে ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭৬০ ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা হিসেবে বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।
বৈঠকে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, প্রিমিয়াম ও পরিবহন খরচে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দেয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় রফতানিকারক অনেক দেশ সরবরাহ সীমিত করে। বৈশ্বিক এ অস্থিরতার কারণে বিপিসির বিদ্যমান চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যায় পড়েছে। এরই মধ্যে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড ও পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি লিমিটেড চলতি বছরের এপ্রিলের কিছু পার্সেল সরবরাহে অপারগতা জানিয়ে ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে ঝুঁকি তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বিভিন্ন বিকল্প সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকার।
জানা যায়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসারে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির জন্য কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্লান্ট এলএলপির কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পাঠানো দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে দরকষাকষির মাধ্যমে দুই পক্ষ পণ্যের মূল্য ও পরিশোধের পদ্ধতি, পার্সেল সাইজ, ডেমারেজ ইত্যাদি বিষয়ে একমত হয়। এ ড্যাজেলের উৎস দেশ কাজাখস্তান, পণ্য জাহাজীকরণ করা হবে জর্জিয়ার বাটুমাই বন্দর থেকে আর খালাস করা হবে চট্টগ্রাম বন্দরে। ক্রয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের আগে প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।
এদিকে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে এ এলএনজি কেনা হচ্ছে। দুই কার্গো এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর মূল্য ধরা হয়েছে ১৯ ডলারের কিছু বেশি। ফলে এতে মোট ব্যয় হতে পারে ১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।